সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যখন “ভগ্ন ও চূর্ণ অন্তঃকরণ” ক্ষমা লাভের চেষ্টা করে

যখন “ভগ্ন ও চূর্ণ অন্তঃকরণ” ক্ষমা লাভের চেষ্টা করে

ঈশ্বরের নিকটবর্তী হোন

যখন “ভগ্ন ও চূর্ণ অন্তঃকরণ” ক্ষমা লাভের চেষ্টা করে

২ শমূয়েল ১২:১-১৪

আমরা সকলে অনেকবার পাপ করি। আমরা যতই দুঃখিত হই না কেন, আমরা হয়তো ভাবি: ‘ঈশ্বর কি আমার অনুতপ্ত হওয়ার আন্তরিক প্রার্থনাগুলো শোনেন? তিনি কি আমাকে ক্ষমা করবেন?’ বাইবেল এই সান্ত্বনাজনক সত্যটি শিক্ষা দেয়: যদিও যিহোবা পাপকে কখনো অনুমোদন করেন না কিন্তু তিনি একজন অনুতপ্ত পাপীকে ক্ষমা করতে ইচ্ছুক। ২ শমূয়েল ১২ অধ্যায় অনুসারে, এই সত্যটি প্রাচীন ইস্রায়েলের রাজা দায়ূদের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছিল।

পটভূমিটা কল্পনা করুন। দায়ূদ গুরুতর পাপ করার দোষে দোষী। তিনি বৎশেবার সঙ্গে ব্যভিচার করেছিলেন আর যখন সেই পাপ ঢাকার চেষ্টাগুলো ব্যর্থ হয়েছিল, তখন তিনি তার স্বামীকে হত্যা করার ব্যবস্থা করেছিলেন। এরপর দায়ূদ বেশ কিছু মাস নির্দোষ থাকার ভান করে তার পাপ সম্বন্ধে চুপচাপ ছিলেন। কিন্তু, যিহোবা দেখছিলেন। তিনি দায়ূদের পাপ দেখেছিলেন। কিন্তু তিনি এও দেখেছিলেন যে, দায়ূদের হয়তো এক অনুতপ্ত মনোভাব রয়েছে। (হিতোপদেশ ১৭:৩) যিহোবা কী করবেন?

যিহোবা ভাববাদী নাথনকে দায়ূদের কাছে পাঠান। (পদ ১) পবিত্র আত্মার দ্বারা পরিচালিত হয়ে নাথন কৌশলে রাজার কাছে যান, এটা জেনে যে, তাকে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে তার কথাগুলোকে বাছাই করতে হবে। কীভাবে তিনি দায়ূদকে দেখাতে পারেন যে, তিনি নিজেকে প্রতারিত করছেন আর কীভাবে তিনি তাকে এটা বুঝতে সাহায্য করতে পারেন যে, তিনি কতখানি গুরুতর পাপ করেছেন?

নিজেকে ন্যায্য বলে প্রতিপন্ন করা থেকে দায়ূদকে প্রতিরোধ করার জন্য নাথন একটা গল্প বলেন যেটা নিশ্চিতভাবে এই প্রাক্তন মেষপালকের হৃদয়ে পৌঁছায়। গল্পটা হল দুজন লোক সম্বন্ধে, একজন ধনী আর অন্যজন দরিদ্র। ধনী ব্যক্তির “বিস্তর মেষাদি পাল ও গোপাল” ছিল কিন্তু দরিদ্র ব্যক্তির “কেবল একটী ক্ষুদ্র মেষবৎসা” ছিল। ধনী ব্যক্তির গৃহে একজন পথিক আসেন আর তিনি তার জন্য খাবার প্রস্তুত করতে চান। তার নিজের পাল থেকে একটা মেষ না নিয়ে তিনি সেই দরিদ্র ব্যক্তির একমাত্র মেষটা নেন। স্পষ্টতই এই চিন্তা করে যে, গল্পটা সত্যি, দায়ূদ বিক্ষুদ্ধ হন ও ঝোঁকের মাথায় বলেন: “যে ব্যক্তি সেই কর্ম্ম করিয়াছে, সে মৃত্যুর সন্তান।” কেন? ‘সে কিছু দয়া করেন নাই,’ দায়ূদ ব্যাখ্যা করেন। *—পদ ২-৬.

নাথনের দৃষ্টান্ত, যে-উদ্দেশ্যে তিনি তা দিয়েছেন সেটা সম্পাদন করেছে। এর ফলে দায়ূদ নিজেকে অপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করেন। এখন নাথন স্পষ্টভাবে তাকে বলেন: “আপনিই সেই ব্যক্তি।” (পদ ৭) যেহেতু নাথন ঈশ্বরের পক্ষে কথা বলেন, তাই এটা স্পষ্ট হয় যে, যিহোবা দায়ূদের আচরণকে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে করা হয়েছে বলে বিবেচনা করেন। ঈশ্বরের আইন লঙ্ঘন করার দ্বারা দায়ূদ সেই আইনদাতার প্রতি সম্মানের অভাব দেখিয়েছেন। ‘তুমি আমাকে তুচ্ছ করিয়াছ,’ ঈশ্বর বলেন। (পদ ১০) যন্ত্রণাদায়ক ভর্ৎসনা তার হৃদয়কে বিদ্ধ করে আর দায়ূদ অপরাধ স্বীকার করে বলেন: “আমি সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করিয়াছি।” নাথন দায়ূদকে এই আশ্বাস দেন যে, যিহোবা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন কিন্তু দায়ূদকে তার আচরণের পরিণতিগুলো ভোগ করতে হবে।—পদ ১৩, ১৪.

তার পাপ প্রকাশ করে দেওয়ার পর, দায়ূদ এই ৫১ গীতটি রচনা করেন। এই গীতটিতে তার গভীর অনুতাপ প্রকাশ করে দায়ূদ তার হৃদয় উজাড় করে দেন। তার পাপের দ্বারা দায়ূদ যিহোবাকে তুচ্ছ করেছেন। কিন্তু অনুতপ্ত রাজা একবার ঈশ্বরের ক্ষমা লাভ করার পর, তিনি যিহোবাকে বলতে পেরেছিলেন: “হে ঈশ্বর, তুমি ভগ্ন ও চূর্ণ অন্তঃকরণ তুচ্ছ করিবে না।” (গীতসংহিতা ৫১:১৭) যিহোবার দয়া লাভের চেষ্টা করছেন এমন একজন অনুতপ্ত পাপীর কাছে এই কথাগুলো হল সবচেয়ে বেশি আশ্বাসদায়ক কথাগুলোর মধ্যে কয়েকটা। (w১০-E ০৫/০১)

[পাদটীকা]

^ একজন পথিকের জন্য মেষ রান্না করা ছিল এক অতিথিপরায়ণ আচরণ। কিন্তু মেষ চুরি করা ছিল এক অপরাধ আর এর শাস্তি ছিল চারগুণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা। (যাত্রাপুস্তক ২২:১) দায়ূদের দৃষ্টিতে, মেষ নেওয়ার দ্বারা ধনী ব্যক্তিটি নির্দয়তার কাজ করেছেন। কারণ তিনি সেই দরিদ্র ব্যক্তিকে এমন একটা পশু থেকে বঞ্চিত করেছেন যেটা হয়তো তার পরিবারকে দুধ ও পশম জোগান দিত আর এমনকী যেটা পাল বৃদ্ধি করার জন্য প্রথম মেষ হতে পারত।